হোসেনের সেদিন,,
মনে শত রং ভাসে,,
প্রথম চারণ আজকে তার,,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।।
বাবার কাছে আবদার:কালো প্যান্ট সাদা জামা,,
বাবা, ছুটে নিয়ে আসে।।
মা,পায়েস রাঁধে ঘন দুধে,,
হোসেন পেটপুরে খায় বসে মায়ের পাসে।।
মা,,মুচকি হাসে।।
টিনের বাটিতে সবটুকু ভরে দেয়, হোসেনের সাথে।।
বাবা মার দোয়া নিয়ে,,
চলে সে পথ ধরে,,
রাস্তায় যত গুণিজন পড়ে,,
পা ধরে সালাম করে।।
বলে,,
দোয়া করবেন,,
যাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়,,
বানাইতে পরিচয়।।।
এভাবে,সে ফেরিঘাট অবদি আসে,,
নৌকার ঠিক মাঝখানটাই বসে।।
লোক হাহাকার,নৌকা ছাড়ে না মাঝি,,
হোসেন খোদারে দুষে, কয় এ কেমন কারসাজি।।
ছটফট মন,,হোসেন তখন,,এই সিদ্ধান্ত নেয়,,
ছাড়বে সে এ পাড়,
থাকবে না আর,
যাবে ঐ ধার।।
তাই, সে পুরো নৌকা ভাড়া করে,,
অতঃপর,চলে পদ্মা পরে।।
মাঝ পদ্মায় হোসেন,,
নৌকা চলছে,,তবুও বলে,মাঝি ভাই,চালাও তাড়াতাড়ি।।
ইতোমধ্যে সে শোনে,,
ঐ পাড়ের মানুষগুলো করছে আাহাজারি।।
তাকায় সে চারিদিক,,
পদ্মা উত্তাল,,
আকাশে পাখি উড়ছে দিক-বিদিক।।
হোসেনের কাটে স্বপ্নের ঘোর,,
চিন্তায় হয় সে বিভোর।।
তাকাই সে দিগন্তে,,
হঠাৎ!!বিকট শব্দ,,
দেখে ১টা সবুজ জাহাজ বোমা বর্ষন শুরু করে,,
হোসেনের মা-র কথা মনে পড়ে।।
মায়ের দেয়া পায়েসের বাটি রাখে শক্ত করে ধরে।।
সে দেখে,তার কিছুটা সামনে পাঁচটা নৌকায়,মুক্তিযোদ্ধা ভাই,,
অকাতরে প্রাণ হারায়।।
কিছু বুঝে ওঠার আগে,
১টি বোমা পড়ল এসে হোসেনের নৌকাতে।।
সব ছাড়খার,,
অন্ধকার চারিধার,,
হোসেন পালের উপর ভাসে।।
পায়েসে তার সারা মুখ গেছে মেখে,,
নিভু নিভু চোখে সে তাকাই,দ্যাখে,,
স্বপ্নগুলো তার অস্ত যাচ্ছে পশ্চিম-আকাশে।।।
বুঝল,,
আক্রমনে পাকিস্তানি,,
তিনটা নৌকা শেষ,আর ২টা বাকি,,
শেস নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে,হোসেন উঠল ডাকি:(মা!!মাতৃভুমি।।)
দেখলাম,,
উত্তাল পদ্মা,,
ঘোলাটে জল।।
হোসেনের লাল জামা,,
এলোমেলো শতদল।।
অতঃপর,,
হোসেনসহ,আমার সাথীদের করলাম দাফন,,
তারা আজও জিন্দা,নয়কো মু্র্দা,,
আমি ঐ ২নৌকার ১ মুক্তিযোদ্ধা,,,
মাতৃভূমির বিজয় করছি উৎযাপন।।।।
শেষ করি,,
হোসেনের (মা,,মাতৃভূমির) আসঙ্কা কাটিয়ে।।।
"জয় বাঙালির,জয় বাঙলার" আজও স্লোগান দেই গলা ফাটিয়ে।।।।
(এখানে হোসেনের বিশ্ব-বিদ্যালয় যাওয়ার ঘটনাগুলো তখনকার মানুষের ওই-রুপ আবেগ-গুলার সাথে ঘটে যাওয়া নিরমমতার সাক্ষ্য-রূপে ব্যবহৃত হয়েছে...)