Monday, 26 October 2026

তুই

তুই 

     .....কিয়ৎ কিঙ্কর


তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া,

বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া।

তুই মন ক্যানভাসে প্রাণ-রঙ, প্রাঞ্জল মোনালিসা ,

চিত্র হয়ে যায় চিত্রকল্প, ভ্রমে জাগাস দিশা।


রোজ তোরে জোসনা দিয়ে স্মৃতির সওদা করি,

পাঁজর ভেঙে কান্না এলে তোরে জড়িয়ে ধরি।

তুই আমার অপরিহার্য বৈদ্য, মন অসুখের পথ্য,,

তুই আমার হৃদয় মুকুর, স্ব-কে চেনার সত্য।।


মায়ার পাল্লা ভারী হলে আকাশ পানে চায়,,

ব্যোমের নীল মমতার খোঁজে তোরই পানে ধায়।

তুই আমার শুকনো ডালে যত্নে গজানো কুশি,,

তুই আমার সবটুকু সাধ, আত্মা নিঙরানো খুশি।।


সদা তোরে আজাদি দিয়ে স্বপ্ন-সীমা বাড়ায়,

দুখ কাটিয়ে চরম সুখে তোরেই বুকে জড়ায়।

তুই আমার পরশ পাথর, শান্তিতে ভাস্মর দিয়া,,

তুই আমার সফর-সঙ্গী, আমার উইটোপিয়া।


তুই, হতাশ কালে আঁশের বাতি, উজ্জীবনী শক্তি,,

শুষ্ক মরুর সবটুকু নীর, প্রীতির স্বরভক্তি।।

তুই, ক্লান্ত দিনের শীতল বাতাস, শান্ত আরাম ঘুম,,

শুক্লপক্ষের সবটুকু চাঁদ,  স্বপ্ন-কল্প-দ্রুম।


Wednesday, 21 October 2026

জীবন মরুর হাদিয়া

 জীবন মরুর হাদিয়া

                           .......... কিয়ৎ কিঙ্কর 

আচমকা ঘুম ভেঙে গেল,
বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলার পণ করলাম।
 
ঘুম ঘোরে জানলাম,,
যৌবন শেষে তৃণভূমি ছাড়ার চেয়ে,
এখনই মরু জীবন আপন করা শ্রেয়।
তাতে কষ্ট হলেও কষ্টের তীব্রতা কমে যায়,,
অপ্রিয় হলেও মন প্রিয়-কাতর হয় না।

জীবন-মরু শাশ্বত,
স্বজনতরু সর্বদা পাশে থাকে না,,
এমনি মাথার উপরে বটের ছায়া,
সদা-আগলানো মায়ের মায়া,
চিরঞ্জীব নয়।

সময়ের আঘাতে জন্মানো স্রোত,
করে হরিৎ দ্বীপের ক্ষয়।
আবার নব পলির মতো আশা জমাট বাঁধে,
আশার মৃত্যু হয় আক্ষেপের কোলে।

মোটা দাগে সময়ের হাত ধরেই,
হতাশার হামাগুড়ি শুরু হয়,,
বয়স বাড়ে আশার চিতায় ঘি দিয়ে,
হু হু করে হতাশা মস্তিষ্কে জায়গা করে নেয়।

ঠিক তখনি সব আলো অন্ধকার হয়ে ধরা দেয়,
পৃথিবীর ব্যস্ততা শুরু হয় তোমাকে একলা করতে,
এই ক্রিয়া এতটাই দুনিয়াবি যে,
তোমার একটু অভিযোগের সুযোগও রাখে না।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও যখন একা হলাম, আশেপাশে সবাই থেকেও,,
তখন বুঝেছি জগৎ তার নিয়ম কারো জন্য ভাঙ্গে না,,
মানুষকেই হতে হয় চরম মানানসই,
তাই, সহজে ঝরে যাওয়ার ভয়েই,
বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলতে শুরু করলাম।

যদিও তা কঠিন, তবুও আমাকে আমাতে ব্যস্ত রাখে,
অন্যের হাতের পুতুল করে না।
এই পথই আমাকে হাদিয়া দেয়--
যৌবন-মরুকে জয়ের সুখ,,
তীব্রতর কষ্টে মুখে রাখা হাসি, 
আর প্রিয়-কাতরতা ছাড়াই কিছু প্রিয়জন।।

Saturday, 10 October 2026

সাম্য সনেট

সাম্য সনেট 

           ........... কিয়ৎ কিঙ্কর 


আসার কথা ছিল বসন্তের বিরহ শেষে,

সরু-মেঠো পথ ধরে, বিস্তৃত আশার বেশে।

কথা ছিল আসবে শিশুর প্রথম কান্না মেখে,

ভেবেছিলাম ঘুচবে কালের জ্বরা তোমায় দেখে।।


তোমার আগমনে ভাঙবে শিকল, উঠবে রবি,

দম পাবে স্বাধীনতা, মুছে সব নকল ছবি।

সমান সমান ভাগ -হবে- সব অসমতার ইতি,

দুর্নীতি কোমায় -রবে- চিরকাল তব-রীতি।।


আসলে তুমি শরৎ শেষে, শুভ্র কাশের শীষে,

হলে আপন, জীবন-যাপন চাষাভুষার দেশে।

কোকিলের চোখ দেখি না আর মারলে তোমার বিষে,

সব কীটের কবর রচেছো খাঁটি কাঁদায় মিশে।


তোমার টানে সনেটের গানে আম জনতার সুর।

বঙ্গ কষে সাম্যের চাষা করে বৈষম্য দূর।। 

Wednesday, 7 October 2026

শৃঙ্খলাহীন জগতে প্রাপ্তির মুলুক রচনা

 শৃঙ্খলাহীন জগতে প্রাপ্তির মুলুক রচনা 

                                       ................কিয়ৎ কিঙ্কর

 

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির নিচে,

পুষকুনির তটে পায়ের ছাপ পড়ার মতো কাদায়, 

এক পায়ে দাঁড়ানো হাঁসের ঘুম,

আমায় প্রশান্তির মানে খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে।


ব্যাস্ত কোলাহলপূর্ণ রাস্তার পাশে সন্ধ্যার পর,

মানুষের কানে আঙ্গুল-চেপে চলার মাঝেই

ফুটপাতের কিনারায় কুকুরের আরাম-ঘুম,

অবস্থানের সাথে সহ্য ক্ষমতার নতুন সমীকরণ বুনে

আমার চিন্তায়।


বাতাসের জোরে ছুটে চলা কাশফুলের বীজের পেছনে,

কোনোকিছু না ভেবে -খিলখিলানো হাসি নিয়ে, 

ছোট্ট ছেলেটার ছুটে চলা,

আমার জটিল মগজে সহজ হাসির উপায় খোঁজার তাড়না দেয়।


দুপুর বেলায় ঘন অন্ধকার সহ প্রবল ঝড়ে,

বড় ফজলি গাছটার নিচে, হেসে চিল্লিয়ে বিদ্যুৎ-চমকানো আলোয়,

উলু-মাঝে আম পাওয়ার প্রতিযোগিতা,

আমায় সুযোগ ও সাহসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব খুঁজতে প্রেরণা দেয়।


সারের বস্তার বড় পলিতে,

চোখ বরাবর দুটো ফুটোকরে বৃষ্টির মাঝে,

বুকে বই জড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ,

আমায় অভাবের সাথে আনন্দের সহবাস সম্ভব বলে ধারণা দেয়।


এসবের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত হই, 

পানকৌড়ির চোখের মতো নীল জলে অবগাহনের ইচ্ছে জাগে,

ইচ্ছে জাগে শীতের ভোরে পাকা রাস্তায় হাত ছেড়ে সাইকেল চালাতে,

সকাল বেলা নুন ছিটিয়ে মোটা চালের ভাতের মাড় খেতে,

বৃষ্টির মাঝে শেওলা জন্মানো পালাঙ্গায় পিচ্ছিল খেলতে,

আখ বোঝাই মহিষের গাড়ির পেছনে ঝুলে ঝুলে কুশর বের করতে,,

শীতের সন্ধেই গোল করে বসে সাঁজাল তাপাতে,,

ক্লান্তিগুলো ফুরায় শহরের চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হওয়া অপ্রাপ্তির স্লোগানে।।


তবে আজ পঞ্চাশ পেরিয়ে ,,

হতাশার এক বিন্দুও কাছে নেই , 

প্রাপ্তির পাল্লাও ভারী মনে হয়,

উত্তরগুলো সব ঠিকঠাক নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি,

নিজের জীবনে, আপন ভাবনার জায়গা দিয়েছি 

বিস্বাসের ঘরে।।


জবাবগুলো আমাকে শান্তি দিয়েছে,

অল্পকেও মধুর ভাবার শক্তি দিয়েছে,,

নগন্য কেউ গণ্য করার সুযোগ দিয়েছে,

প্রকৃতির খুনসুটি উপলব্ধির অবকাশ দিয়েছে,,

স্রোতের প্রতিকূলে অনুকূল ভাবতে শিখিয়েছে।।


তাই আজ,,


শান্ত পুস্কুনির নীরব জলে 

পানি পোকার বিচরণে 

জন্ম নেয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গগুলোও 

আমার ভালো লাগে।


পুকুরের পানি ভেদ করা কুঞ্চির উপরে,

ফড়িংয়ের পুনঃপুন উঠা-বসা,

আমার মনোযোগ কাড়ে।


বর্ষার বৃষ্টিতে সোনালি ব্যাঙের ডাক,

আমার কানে সিম্ফনি বানায় ।


অমাবস্যার আকাশের এলোমেলো তারারা,

আমায় নানান গল্প শোনায়,,


নীল আকাশের বুকে ভেসে চলা,

সাদা-কালো মেঘ, মগজে

চারকোলে আঁকা বিচিত্র শিল্পের জন্ম দেয়।


আমতলে হপারের ভুনভুনিয়ে ইতস্তত ছুটে চলা,

সন্ধ্যা না নামতেই ঝিঁঝিঁর কলতান,

আর রাত গভীর হলেই নানান বাদুড়ের কূজন,

সব ক্যাকোফোনি সুর খুঁজে পায় আজ।।


ভালো আছি, হতাশাময় জটিল এ গোলকে নিজের মুলুক বানিয়ে।।

Sunday, 4 October 2026

সম্ববত, খোঁজ হবে না

সম্ববত, খোঁজ হবে না

                        ......... কিয়ৎ কিঙ্কর 


সম্ববত, খোঁজ হবে না,,

দূর পথিকের।

যে দূর পথ পেরিয়ে উপসংহার হারিয়ে,

সূচনায় হবে অচেনা,,

নতুন ভূমিকায় তার মন যাচে না --আবার সূচনা করতে।

অসময়ের পথিক হয়ে সুসময়ের আঙ্গুল ধরতে।


যার হাতে বাতি আছে,

রীতি মেনে স্মৃতি আছে,

অন্ধকার কাটাতে পাছে,

জোনাকির আলো, তার মন সাধে না।

অমাবস্যায় পূর্ণিমা চেয়ে তার মন কাঁদে না।।


তরী যার আছে তার, মন-মাঝে কম্পাস।

দিক রাখে ঠিকঠাক, সময়ের ক্রীতদাস,,

গন্তব্যে দিগন্ত থাকে, পেছনে সে দেখে না।

ফেলে আশা তীরের কতশত স্মৃতি তারে, নব-আঁশে বাঁধে না।

তীরে বসা মাঝির এক তরী স্বপ্ন তারে, ভাবুক হতে সাধে না ।


সম্ভাবনা রোজ রবে না,

আগামীতে খোঁজ হবে না --

ঐ পথিকের,

যার ব্যর্থ অতীত, বর্তমানে;

আগামীর ভয় ছাপিয়ে,

জয়ের নেশা চাপিয়ে, আর ক'বে না -- 

আরেকবার চেষ্টা করতে।

আজকে হামাগুড়ি দিয়ে কালকের আঙ্গুল ধরতে।


যার হাতে হাল নেই,

ঝড়ের দরুন পাল নেই,

দিকহারা তরী বাঁচাতে সে-ই,

কোনো রীতি আর মানে না।

জীবন নদে, যাত্রার পথে পথে,

জীবনী সঞ্চয়ে, সময়ের সাথে সাথে,

অতি অভিলাষ তারে আর হানে না।


ঊষর,

জমি যার নেই তার, আঁশ নিয়ে হাল-চাষ,

ফল পায় না ঠিকঠাক, তবু হয় সময়-দাস।

দিগন্তে গন্তব্য থাকে কিন্তু তা সে দেখে না।

সারা মৌসুম স্বপ্নচাষ তবু সুসময় তারে ধরে না।

অশ্রু-সেচ খরা কাটায় তবু খালি গোলা ভরে না।


সম্ভাবনার সব সূত্র জেনে, রীতিনীতির সবটা মেনে,

পথিক পথে টিকে থাকলেও,পথ পথিকের কথা রাখলেও,

সময় ফুরিয়ে যাবে, মনন আর সাঁই দিবে না --

আরেকবার চেষ্টা করতে,,

নিয়তি-সঙ্গ ত্যাগ করে স্বপ্নের আঙ্গুল ধরতে।।


সম্ববত, খোঁজ হবে না,,

সম্ভাবনা আর রবে না,,

দূর পথিকের। 

তুই

তুই        .....কিয়ৎ কিঙ্কর তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া, বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া। তুই মন ক্...