স্মৃতির চিঠি
.......... কিয়ৎ কিঙ্কর
.......... কিয়ৎ কিঙ্কর
নরম ঘাসের বিছানায় শুয়ে
চলে যাওয়া কিছু সময় ফিরিয়ে,,
মন কলমে লিখছি তোমায় চিঠি।।
প্রিয় স্মৃতি,
আকাশ আজ মেঘলা,
তাই উন্মুক্ত মাঠও শান্ত মেজাজে আছে,,
ঠিক তোমার অভিমান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শরতের মেঘ ছিল,,
তাই আষাঢ়ে মেঘের প্রস্তুতি ছিল না।
কিছুটা বেপরোয়াই ছিলাম।।
শাক দিয়ে মাছটা ঢাকার চেষ্টায় আছি,,
জানি বুঝতেই পারছো,,
কারণ তোমায় একা রেখে সাগর দেখেছি,
তোমার আবদারে অজুহাত রেখেছি।।
একসাথে বৃষ্টি বিলাসের কথা দিয়েও,
বৃষ্টি শেষে হাজির হয়েছি।
তোমার ছোট্ট আবদার একটা গোলাপের
বিপরীতে আমার ভুলে যাওয়া।
এগুলা আমার শতভাগ অন্যায়।
তোমার অভিমান শতভাগ সঠিক, আজ বুঝি।
আক্ষেপ গুলোই বেশি মনে করাই,
তাই নির্লজ্জ হয়ে অভিমানই খুঁজি।।
অতি যতনে রেখেছিলে, তাই খুঁজিনি নিজেকে
উদাসীন ছিলাম কিছুকাল বুঝিনি নিজেকে,,
এখন যখন বুঝি তখন তোমায় খুঁজি,,
আরে দেখো বৃষ্টি শুরু হলো,,
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমায়,,
তাকিয়ে দেখছি মেঘ কেটে যাচ্ছে,,
ঠিক যেমন তোমার রাগ অভিমান শেষ হতো,,
এমন মেঘ - বৃষ্টি খেলা,, অনেক খেলেছি আমরা।
কখনো তোমার অভিমান,, কখনো আমার।
তবে প্রতিবার শেষটা সর্বদা আমাদেরই ছিল --
সব ভুলে কেমন ফ্যাত ফ্যাত করে কানতাম
জড়িয়ে ধরে একে ওপরের নিঃশাস শুনতাম।।
আমার দোষগুলো তোমার দোষগুলো,,
প্রতিবারই পারস্পরিক আস্থা আর সম্মানের
বজ্রপাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হতো মানতাম।
তুমি অস্বীকার করতে পারবে,
এক ঝলক দেখার জন্য, কিছু কথা বলার জন্য
কতটা ব্যাকুল থাকতাম,,
সুযোগ হলেই কল্পনা সাজাতাম,
শুরু হতো আমার কথার ধুম,,,
তোমার প্রত্তুত্তর ”হুম "
অনেক ভাবে থাকতা তুমি,,
অবশ্য মানাতোও তোমার সাথে,,
পরীর মত ছিলা,,
তার উপরে আবার উপজেলা ফার্স্ট ছাত্রী,,
উকিল বাবার একমাত্র মেয়ে,,
ছিলে আমার একমাত্র মনোরথ যাত্রী।।
এটা তুমিও মানতা, তাইতো
তামাটে বর্ণ হয়েও মায়াবী দৃষ্টি পেয়েছি,
সুখী, তোমার অগাধ বিস্বাস পেয়েছি,
ভাগ্যবান, তোমার শেষ নিঃশাস পেয়েছি।।
ভেজা ঘাসের বিছানায় শুয়ে
বর্তমানের সবটুকু সময় নিঙড়িয়ে,,
সকল যান্ত্রিক কোলাহল ছাড়িয়ে,,
মন কলমে লিখছি তোমায় চিঠি।।
প্রিয় স্মৃতি,,