Monday, 26 October 2026

তুই

তুই 

     .....কিয়ৎ কিঙ্কর


তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া,

বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া।

তুই মন ক্যানভাসে প্রাণ-রঙ, প্রাঞ্জল মোনালিসা ,

চিত্র হয়ে যায় চিত্রকল্প, ভ্রমে জাগাস দিশা।


রোজ তোরে জোসনা দিয়ে স্মৃতির সওদা করি,

পাঁজর ভেঙে কান্না এলে তোরে জড়িয়ে ধরি।

তুই আমার অপরিহার্য বৈদ্য, মন অসুখের পথ্য,,

তুই আমার হৃদয় মুকুর, স্ব-কে চেনার সত্য।।


মায়ার পাল্লা ভারী হলে আকাশ পানে চায়,,

ব্যোমের নীল মমতার খোঁজে তোরই পানে ধায়।

তুই আমার শুকনো ডালে যত্নে গজানো কুশি,,

তুই আমার সবটুকু সাধ, আত্মা নিঙরানো খুশি।।


সদা তোরে আজাদি দিয়ে স্বপ্ন-সীমা বাড়ায়,

দুখ কাটিয়ে চরম সুখে তোরেই বুকে জড়ায়।

তুই আমার পরশ পাথর, শান্তিতে ভাস্মর দিয়া,,

তুই আমার সফর-সঙ্গী, আমার উইটোপিয়া।


তুই, হতাশ কালে আঁশের বাতি, উজ্জীবনী শক্তি,,

শুষ্ক মরুর সবটুকু নীর, প্রীতির স্বরভক্তি।।

তুই, ক্লান্ত দিনের শীতল বাতাস, শান্ত আরাম ঘুম,,

শুক্লপক্ষের সবটুকু চাঁদ,  স্বপ্ন-কল্প-দ্রুম।


Wednesday, 21 October 2026

জীবন মরুর হাদিয়া

 জীবন মরুর হাদিয়া

                           .......... কিয়ৎ কিঙ্কর 

আচমকা ঘুম ভেঙে গেল,
বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলার পণ করলাম।
 
ঘুম ঘোরে জানলাম,,
যৌবন শেষে তৃণভূমি ছাড়ার চেয়ে,
এখনই মরু জীবন আপন করা শ্রেয়।
তাতে কষ্ট হলেও কষ্টের তীব্রতা কমে যায়,,
অপ্রিয় হলেও মন প্রিয়-কাতর হয় না।

জীবন-মরু শাশ্বত,
স্বজনতরু সর্বদা পাশে থাকে না,,
এমনি মাথার উপরে বটের ছায়া,
সদা-আগলানো মায়ের মায়া,
চিরঞ্জীব নয়।

সময়ের আঘাতে জন্মানো স্রোত,
করে হরিৎ দ্বীপের ক্ষয়।
আবার নব পলির মতো আশা জমাট বাঁধে,
আশার মৃত্যু হয় আক্ষেপের কোলে।

মোটা দাগে সময়ের হাত ধরেই,
হতাশার হামাগুড়ি শুরু হয়,,
বয়স বাড়ে আশার চিতায় ঘি দিয়ে,
হু হু করে হতাশা মস্তিষ্কে জায়গা করে নেয়।

ঠিক তখনি সব আলো অন্ধকার হয়ে ধরা দেয়,
পৃথিবীর ব্যস্ততা শুরু হয় তোমাকে একলা করতে,
এই ক্রিয়া এতটাই দুনিয়াবি যে,
তোমার একটু অভিযোগের সুযোগও রাখে না।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও যখন একা হলাম, আশেপাশে সবাই থেকেও,,
তখন বুঝেছি জগৎ তার নিয়ম কারো জন্য ভাঙ্গে না,,
মানুষকেই হতে হয় চরম মানানসই,
তাই, সহজে ঝরে যাওয়ার ভয়েই,
বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলতে শুরু করলাম।

যদিও তা কঠিন, তবুও আমাকে আমাতে ব্যস্ত রাখে,
অন্যের হাতের পুতুল করে না।
এই পথই আমাকে হাদিয়া দেয়--
যৌবন-মরুকে জয়ের সুখ,,
তীব্রতর কষ্টে মুখে রাখা হাসি, 
আর প্রিয়-কাতরতা ছাড়াই কিছু প্রিয়জন।।

Saturday, 10 October 2026

সাম্য সনেট

সাম্য সনেট 

           ........... কিয়ৎ কিঙ্কর 


আসার কথা ছিল বসন্তের বিরহ শেষে,

সরু-মেঠো পথ ধরে, বিস্তৃত আশার বেশে।

কথা ছিল আসবে শিশুর প্রথম কান্না মেখে,

ভেবেছিলাম ঘুচবে কালের জ্বরা তোমায় দেখে।।


তোমার আগমনে ভাঙবে শিকল, উঠবে রবি,

দম পাবে স্বাধীনতা, মুছে সব নকল ছবি।

সমান সমান ভাগ -হবে- সব অসমতার ইতি,

দুর্নীতি কোমায় -রবে- চিরকাল তব-রীতি।।


আসলে তুমি শরৎ শেষে, শুভ্র কাশের শীষে,

হলে আপন, জীবন-যাপন চাষাভুষার দেশে।

কোকিলের চোখ দেখি না আর মারলে তোমার বিষে,

সব কীটের কবর রচেছো খাঁটি কাঁদায় মিশে।


তোমার টানে সনেটের গানে আম জনতার সুর।

বঙ্গ কষে সাম্যের চাষা করে বৈষম্য দূর।। 

Wednesday, 7 October 2026

শৃঙ্খলাহীন জগতে প্রাপ্তির মুলুক রচনা

 শৃঙ্খলাহীন জগতে প্রাপ্তির মুলুক রচনা 

                                       ................কিয়ৎ কিঙ্কর

 

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির নিচে,

পুষকুনির তটে পায়ের ছাপ পড়ার মতো কাদায়, 

এক পায়ে দাঁড়ানো হাঁসের ঘুম,

আমায় প্রশান্তির মানে খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে।


ব্যাস্ত কোলাহলপূর্ণ রাস্তার পাশে সন্ধ্যার পর,

মানুষের কানে আঙ্গুল-চেপে চলার মাঝেই

ফুটপাতের কিনারায় কুকুরের আরাম-ঘুম,

অবস্থানের সাথে সহ্য ক্ষমতার নতুন সমীকরণ বুনে

আমার চিন্তায়।


বাতাসের জোরে ছুটে চলা কাশফুলের বীজের পেছনে,

কোনোকিছু না ভেবে -খিলখিলানো হাসি নিয়ে, 

ছোট্ট ছেলেটার ছুটে চলা,

আমার জটিল মগজে সহজ হাসির উপায় খোঁজার তাড়না দেয়।


দুপুর বেলায় ঘন অন্ধকার সহ প্রবল ঝড়ে,

বড় ফজলি গাছটার নিচে, হেসে চিল্লিয়ে বিদ্যুৎ-চমকানো আলোয়,

উলু-মাঝে আম পাওয়ার প্রতিযোগিতা,

আমায় সুযোগ ও সাহসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব খুঁজতে প্রেরণা দেয়।


সারের বস্তার বড় পলিতে,

চোখ বরাবর দুটো ফুটোকরে বৃষ্টির মাঝে,

বুকে বই জড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ,

আমায় অভাবের সাথে আনন্দের সহবাস সম্ভব বলে ধারণা দেয়।


এসবের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত হই, 

পানকৌড়ির চোখের মতো নীল জলে অবগাহনের ইচ্ছে জাগে,

ইচ্ছে জাগে শীতের ভোরে পাকা রাস্তায় হাত ছেড়ে সাইকেল চালাতে,

সকাল বেলা নুন ছিটিয়ে মোটা চালের ভাতের মাড় খেতে,

বৃষ্টির মাঝে শেওলা জন্মানো পালাঙ্গায় পিচ্ছিল খেলতে,

আখ বোঝাই মহিষের গাড়ির পেছনে ঝুলে ঝুলে কুশর বের করতে,,

শীতের সন্ধেই গোল করে বসে সাঁজাল তাপাতে,,

ক্লান্তিগুলো ফুরায় শহরের চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হওয়া অপ্রাপ্তির স্লোগানে।।


তবে আজ পঞ্চাশ পেরিয়ে ,,

হতাশার এক বিন্দুও কাছে নেই , 

প্রাপ্তির পাল্লাও ভারী মনে হয়,

উত্তরগুলো সব ঠিকঠাক নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি,

নিজের জীবনে, আপন ভাবনার জায়গা দিয়েছি 

বিস্বাসের ঘরে।।


জবাবগুলো আমাকে শান্তি দিয়েছে,

অল্পকেও মধুর ভাবার শক্তি দিয়েছে,,

নগন্য কেউ গণ্য করার সুযোগ দিয়েছে,

প্রকৃতির খুনসুটি উপলব্ধির অবকাশ দিয়েছে,,

স্রোতের প্রতিকূলে অনুকূল ভাবতে শিখিয়েছে।।


তাই আজ,,


শান্ত পুস্কুনির নীরব জলে 

পানি পোকার বিচরণে 

জন্ম নেয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গগুলোও 

আমার ভালো লাগে।


পুকুরের পানি ভেদ করা কুঞ্চির উপরে,

ফড়িংয়ের পুনঃপুন উঠা-বসা,

আমার মনোযোগ কাড়ে।


বর্ষার বৃষ্টিতে সোনালি ব্যাঙের ডাক,

আমার কানে সিম্ফনি বানায় ।


অমাবস্যার আকাশের এলোমেলো তারারা,

আমায় নানান গল্প শোনায়,,


নীল আকাশের বুকে ভেসে চলা,

সাদা-কালো মেঘ, মগজে

চারকোলে আঁকা বিচিত্র শিল্পের জন্ম দেয়।


আমতলে হপারের ভুনভুনিয়ে ইতস্তত ছুটে চলা,

সন্ধ্যা না নামতেই ঝিঁঝিঁর কলতান,

আর রাত গভীর হলেই নানান বাদুড়ের কূজন,

সব ক্যাকোফোনি সুর খুঁজে পায় আজ।।


ভালো আছি, হতাশাময় জটিল এ গোলকে নিজের মুলুক বানিয়ে।।

Sunday, 4 October 2026

সম্ববত, খোঁজ হবে না

সম্ববত, খোঁজ হবে না

                        ......... কিয়ৎ কিঙ্কর 


সম্ববত, খোঁজ হবে না,,

দূর পথিকের।

যে দূর পথ পেরিয়ে উপসংহার হারিয়ে,

সূচনায় হবে অচেনা,,

নতুন ভূমিকায় তার মন যাচে না --আবার সূচনা করতে।

অসময়ের পথিক হয়ে সুসময়ের আঙ্গুল ধরতে।


যার হাতে বাতি আছে,

রীতি মেনে স্মৃতি আছে,

অন্ধকার কাটাতে পাছে,

জোনাকির আলো, তার মন সাধে না।

অমাবস্যায় পূর্ণিমা চেয়ে তার মন কাঁদে না।।


তরী যার আছে তার, মন-মাঝে কম্পাস।

দিক রাখে ঠিকঠাক, সময়ের ক্রীতদাস,,

গন্তব্যে দিগন্ত থাকে, পেছনে সে দেখে না।

ফেলে আশা তীরের কতশত স্মৃতি তারে, নব-আঁশে বাঁধে না।

তীরে বসা মাঝির এক তরী স্বপ্ন তারে, ভাবুক হতে সাধে না ।


সম্ভাবনা রোজ রবে না,

আগামীতে খোঁজ হবে না --

ঐ পথিকের,

যার ব্যর্থ অতীত, বর্তমানে;

আগামীর ভয় ছাপিয়ে,

জয়ের নেশা চাপিয়ে, আর ক'বে না -- 

আরেকবার চেষ্টা করতে।

আজকে হামাগুড়ি দিয়ে কালকের আঙ্গুল ধরতে।


যার হাতে হাল নেই,

ঝড়ের দরুন পাল নেই,

দিকহারা তরী বাঁচাতে সে-ই,

কোনো রীতি আর মানে না।

জীবন নদে, যাত্রার পথে পথে,

জীবনী সঞ্চয়ে, সময়ের সাথে সাথে,

অতি অভিলাষ তারে আর হানে না।


ঊষর,

জমি যার নেই তার, আঁশ নিয়ে হাল-চাষ,

ফল পায় না ঠিকঠাক, তবু হয় সময়-দাস।

দিগন্তে গন্তব্য থাকে কিন্তু তা সে দেখে না।

সারা মৌসুম স্বপ্নচাষ তবু সুসময় তারে ধরে না।

অশ্রু-সেচ খরা কাটায় তবু খালি গোলা ভরে না।


সম্ভাবনার সব সূত্র জেনে, রীতিনীতির সবটা মেনে,

পথিক পথে টিকে থাকলেও,পথ পথিকের কথা রাখলেও,

সময় ফুরিয়ে যাবে, মনন আর সাঁই দিবে না --

আরেকবার চেষ্টা করতে,,

নিয়তি-সঙ্গ ত্যাগ করে স্বপ্নের আঙ্গুল ধরতে।।


সম্ববত, খোঁজ হবে না,,

সম্ভাবনা আর রবে না,,

দূর পথিকের। 

Saturday, 26 September 2026

লৌকিক পাগলামি

 লৌকিক পাগলামি

                         .......... কিয়ৎ কিঙ্কর

আসমানের সীমা ছাড়িয়ে 
ভয়েজারের সেই যাত্রা,
আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয়,
আমি যখন তোমার পানে ছুটি।

আতাকামার বুকে বৃষ্টি নামিয়ে,
উধাও হয় যে জল,
তোমার ততটুকু উপস্থিতিও সমুদ্র-সম,,
তুমি যখন আমার অনুভূতি।।

আলোর বেগের চাইতেও আবেগের বেগ বেশি,
এটা বোধের, প্রমানের না,,
ঠিক তোমাকেও পাবো এক ইউটোপিয়ায়,
এটাও স্বীয় বিশ্বাস, পরাবাস্তব না।

কাবিননামা আর তালাকনামায়, 
এ জগৎ একই স্বাক্ষর চায়,
আবেগের এক বিন্দুও এক রয় না।।
এ জগৎ প্রেমের শ্বেতপত্র চায়,
স্বর্গীয় কিছুই কাগজাকার হয় না।

শীতের দিনে শাল চাঁদরে তুমি জাপটে ধরো,
গরমকালে বৃষ্টি হয়ে আমার উপরে অঝোরে ঝরো,
বর্ষায় বৃষ্টি-বিলাস করো,,

স্বজনেরা কয়, 
পাগল নাকি কেন অমন করো,,
শীত বর্ষা গরমে বুকে কেন পাথর ধরো?

জানেনা ওরা,
বুকের খাঁচায় চাপ পড়লে,
তোমার কথা বেশি মনে হয়,,
মনে হয়, আর একটু বেশি চাপলে 
তোমার কোলে মাথা রাখতে পারবো।
ঘুমের ধৈর্য আসে না স্বেচ্ছায়,
তাই নিজেকে কষ্ট দিয়ে ক্লান্ত হই,
তোমার স্বপ্নে বিভোর হবো বলে।

আবার ভয়ও হয়,
নিজের হাতে অক্কা গেলে,ষোলো আনাই বৃথা,,
সব পেয়েছির দেশ, তব দেখা পাবো না সেথা।।

কিছু সময় দোটানায় থাকছি,
দশ ডাইমেনশনে আমি আর থ্রিডি দুনিয়া,,
নিউটন দাদার জগতে খুঁজছি স্ট্রিং থিওরি বুনিয়া।।

তবে,
কদম গাছের নিচে থেকেই,
আইনস্টাইনের টাইম ডাইলেশনের টের পাচ্ছি,,
অতিপ্রাকৃত-রূপে প্রকৃতিতে তোমাকে পাচ্ছি,
যাত্রা সসীম জেনেই নিজেকে ধরে রাখছি।।
অসীমে পাবো বলে তোমায়।

খাওয়া বলতে,
এক আঁজলা পানি আর একটা পাউরুটি,
অবসরের অবসর নেই,
সময়জ্ঞানকে অনেস্থেসিয়া দিয়েই,
তার পানে ছুটি।

ছুটি ধ্যানের বেশে,,
তোমায় আমি স্পর্শ করি ঠিক পথের শেষে,,
বুঝছি, ক্লান্তিহীন এ লুপ অতিদীর্ঘ হবে না ,,
আমার মরণ--যাত্রাবিরতি--অসমাপ্ত রবে না।

বারযাখ পরে অসীম জীবনে তুমি আর আমি
অর্থ পাবে এ লৌকিক পাগলামি।।

Saturday, 19 September 2026

অবিনাশী ইচ্ছে

অবিনাশী ইচ্ছে

                  ......... কিয়ৎ কিঙ্কর


আজ লিখার শক্তি পাচ্ছি না,

কিন্তু বসে আছি কলম আর কাগজের ধারে।

ইচ্ছের বাইরে গিয়েই আজ আশি,, 

হয়তো আরো কয়েকটা বছর এভাবেই; 

জীবনে ইচ্ছের বিচিত্র বুনন ঠাওর করেছি,

তার অভিজ্ঞতাই লিখার ইচ্ছা-শক্তি জন্মিয়েছে।


হয়তো যখন উঁচু আওয়াজ ছাড়া কান শুনবে না,,

চোখে চশমা পড়েও খুব কাছে ছাড়া দেখবো না,, 

তখনও লিখব ইচ্ছের কালিতে মনন পাতায়।।


আপন ইচ্ছের বাইরেও এক বিশাল জীবন আছে, 

বাস্তবতার জীবন; জীবনের দেয়া সুযোগগুলো-

জীবন সাজায়,, কেউ সাথে সাথে কেউ সবরে,, 

জীবনকে সাজায় জীবনের দেয়া ইচ্ছের আদলে। 


অতঃপর চলে, বাধ্যবাধকতাকে আপন বানানোর সংগ্রাম।

পিছিয়ে পড়া জীবনকে, যে কোন ঘাটে পৌঁছানোর ইচ্ছে।

ইচ্ছে রূপ বদলায় জীবনের প্রচন্ড বাঁকে,, 

যেখানে অপর পাশ না দেখে অনুমান করতে হয় পথের।

ইচ্ছের অবয়ব বদলায় নতুন ভবিষ্যতের ডাকে, 

প্রায় সব সাড়া দেয়, কেউ কেউ শুনে নিজ মতের।


আমি ভীতু মানুষের দলে, 

যেথায় ইচ্ছের দালালি চলে, নিজের সাথে,, 

সাহসের অভাব জিতে নেয় সহসা সুযোগ, জীবনের গতি থামে না। 

সব ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছায়, শুধু বদলাই স্টেশনের ঠিকানা।

সময় থাকে সুযোগের প্রতীক্ষায়, প্রিয় সুযোগ ধরা দেয় না,,

সময় এলে বাস্তবতায়, প্রিয় হয় সাধারণ, আকাঙ্ক্ষা আর রয় না।।


দিন-শেষে রাত এলে, স্বপ্নকে ভয় হয়,, 

কত শত রূপ বদল স্বপ্নকে করে ক্ষয়, 

জীবন বাজারে স্বপ্নের বেচা কেনায় বাস্তবতাই সিন্ডিকেট,

প্রচুর সংগ্রাম শেষে দিন ফুরানোর পর থাকে শুধু মার্জিনাল রেট,, 


সেইরূপে আমি এখন,, 

নিঃশ্বাস নিয়েও স্বপ্ন, ঠিকভাবে হেঁটে বেড়ানোও ইচ্ছে,,

ক্ষণে ক্ষণে স্বপ্ন পূরণ হয়, প্রতি ক্ষণে আখিরাত জড়িয়ে নিচ্ছে। 


সবকিছু ভাবলাম; কলমের আঁচড়ে ঠিক বুঝছি,, 

ইচ্ছের রংধনুতে নিজের শুভ্র ইচ্ছেগুলো অনুপস্থিত, 

লাল নীল আসমানি স্বপ্নের ভিড়ে,,

অলসতা, কাপুরুষতা আর ভয়ে, জীবন-প্রিজম বানাতে পারিনি,,

জীবনীর প্রলোভনে, কিঞ্চিত সুযোগ নীরে।।


আফসোস হচ্ছে চোখ বুজে যাচ্ছে,,

তবুও আপন ইচ্ছের কবরে জন্মাচ্ছে স্বপ্নের মস,,

নিয়তিকে মেনে চরম বেহায়া বেশে ইচ্ছে এলো,

পেতে চায়, জান্নাতুল ফেরদৌস।।

Wednesday, 9 September 2026

আত্মা-হনন

আত্মা- হনন

                          -----কিয়ৎ কিঙ্কর 

রুহ এলো নির্মল দিতে জড়ে বাহুবল,

ধুকপুক সঞ্চার, পরিবার স্বর্গ সুখে,

ইন্দ্রিয় অবিচল বাড়িয়ে চলে স্নায়ুবল,,

অনুভূতির ব্যাতিচার, কিছু কলবে কিছুটা মুখে।


দিন আগায় সময়ের অসীম রথে,

কিছু জন্মজাত আচার, আর কিছু জন্মে পথে,

মানবিক আচার পাথেয় হয় রুহের সাথে।


আধুনিক আদলে শয়তানের জয়,

চারিদিকে দেখে রুহু মানবিক ক্ষয়,

পথিমধ্যে শুরু হয় জেগে থাকার ভয়, 

আত্মার নিদ্রায় কলব-কু ভূমিষ্ট হয়।


রথে জমে গতি,

হয় থেকে থেকে রিয়ার ছলে আত্মার ক্ষতি।

পাপে বাড়ে পরিতাপ, ক্ষীণ হয় ঐশী-জ্যোতি।।


ভালো নেশা পায় যদি ভয় থাকে আখিরাতে,,

আখলাকে আল্লাহর বিধি তবেই সব-কু সুপ্ত থাকে।।


তবে আদম সন্তানের দরুণ, 

এ যদি, নিরবধি থাকে না,, 

এ জীবনসম যুদ্ধের একবারে ইতি ঘটে না,, 

নফসের তরবারির হয় কখনো জয় কখনো পরাজয়, 

এ মহামায়া মৃত্যু ছাড়া কাটে না।।


রিয়া-শয়তান সন্ধি থাকে পাশে পাশে,

জীবন-বোধের কোমায় কোমায় ফেটে পড়ে উল্লাসে।


নফস করে চলে যুদ্ধ, 

পবিত্র আত্মারে করতে পুনরায় শুদ্ধ,,

কিন্তু দুনিয়ার দুনিয়াবী সহজ হয় আপসে,

বিবেকের নিদ্রায় মূল্যবোধের লাশে।


হৃদয়ের যতসব কু , এ রণে একেবারে বিজিত হয় না কভু , 

সুসময় করে তারা কুসময় চাষ, ফুল ফলে ফুটে পরে বাজে অভ্যাস,,

শুধু চায় হয়ে থাকো সাময়িক দাস, মরে যাক জেগে উঠা সত্যের অভিলাস,,

কুমন্ত্রনায় মন হয় মন-না-মতি,

সত্যিনুসন্ধান ডেকে আনে যুদ্ধ-বিরতি।


সময় রথের গতিপথে সবাই হারায় পথ, যৌবন গুহায়;

নানা রূপের প্রলোভন, যান্ত্রিক দর্শন, অজ্ঞতার মায়ায়।


মরীচিকা ছলে বলে রাখে তারে নিজ দলে, 

ক'রে পাপের বর্ষন।

নফস বারেবার মশাল জালে, 

কখনো আলোকিত হয় কখনো হয় আলোর বিসর্জন।


জীবন-গতি স্থিমিত হলে, জং ধরে কুপ্রবৃত্তির ছলে, 

সায়াহ্ন-এ এসে মনে পড়ে, রূহ-শুদ্ধির প্রয়োজন।।


ঘুমিয়ে থাকার একপর্যায়ে,

কলবে ঘটে সত্যের জাগরণ।

সব অর্জন মস্তিষ্কে বর্জ্যসম তখন, পাঁচ ওয়াক্ত চেষ্টা চলে,

আত্মশুদ্ধির তরে করতে, কলুষিত আত্মার হনন।


এ আত্মা-হনন,

যা দিশেহারা নফসকে দেয় দিশা ,,

অতি প্রিয় আমার দয়াল স্রষ্টার।।

এ আঁশের সূর্যোদয়,

আনে মরণের পর চমৎকার এক বেঁচে থাকার নিশা।

ছলছল হয় চোখ স্বপ্নদ্রষ্টার।।


এভাবে বিশে, পঞ্চাশে নতুবা ষাটে চলে 

কলুষিত আত্মার আত্ম-হনন,

অনন্ত-কাল সুখভোগ লোভে,

মোনাজাতে আঁখি-নীর, স্রষ্টাকে স্মরণ।।


ক্রান্তীকাল জিজ্ঞাসে, তবে শেষ-রণে জয় কিসে?

রূহ উত্তর হানে, আত্মা-হননে তাওহীদের বিষে।।



Thursday, 27 August 2026

ধন্যবাদ অপরিচিতা

ধন্যবাদ অপরিচিতা

                         ........ কিয়ৎ কিঙ্কর 


কড়ই তলে ঠিক বিকেলে তোরে প্রথম দেখা,,

সাদা ফতুয়া, লাল ঠোঁট, ছোট চুল,

বেড় দাঁত, জিন্স আর হাতে শালুক ফুল,,

আমকে এসে ফুলটা দিলি, সাফ করে দিলি চুল,

গাছের কিনারাই বসা আমি, মুগ্ধতাই আকুল,,,,

বলতে চাইলাম অনেক কথা, শুনলি গোঙানোর শব্দ,,

কে তুই কেন মুছলি, আমার লোল,,

মানব আত্মা এত ভালো হয়? এতটা উজ্জ্বল!!!


শোন,, বানাবি আমাই দাস??

জানি সম্ভব না,

তবুও করবো এই অলীকের চাষ,,,


বছর ঘুরলে শুধু একবার দেখা দিস,,প্লিজ

৭ জানুয়ারি,,

সেদিন এসেছিলাম ধরাই,,,

বার বার পুনর-জন্ম পেতে চাই তোর আবেশে জড়াই...


দিগন্তে এসে কি গান সোনালি, শেষ গোধূলির ছায়াই,,

হাজার হতাশা খুঁজে পেল আশা তোর ক্ষণিকের ছোঁয়াই,,


মন্ত্র না করেই কিভাবে ফিরালি হারিয়ে যাওয়া হাসি,,

করলি কখন গুপ্ত হনন, বানালি প্রেম চাষি,,

কেন এলিনা আগে,,

মরণ চাওয়া এই চাতকের জীবনের সাধ জাগে,,


জারুল ফোটেনি তাই কলমি ফুলে সাজাবো তোর চুল,,

বিষন্নতা , বিষাদ, জরাজীর্ণ, ফুরিয়ে যাওয়া জীবনে,,

ফুটালি বকুল ফুল,,


কালো শাড়ি বেগুনি কুঁচিতে মাথা রাখবো তোর কোলে,,

সব সঞ্চয় এখন তোর খোপাই বকুল তুলবো বলে,,


অনেক বছর হলো,

এবারও আসিস নি,

এর মধ্যে শালুক তুলেছি, বকুল কুড়িয়েছি,,

জারুল ও ফুটেছে অনেক বার,,,

তুই আসিস নি,,


হয়তো বুঝিসনি আমার গোঙানি,

তবে ভালোই হয়েছে,

এই গাছের তলে কিছুই বদলাইনি, তোর গন্ধ পাই,,

ধুলায় গড়াগড়ি দেই না, চুলের ভাঁজ ঠিক রাখি,,

লোল পড়ে না আর,,

ভালোই হয়েছে আসিস নি, আসলে বদলে যেতাম আবার,,


ছন্দ না মিললেও,

জীবনের এই ভাগ আমার খুবই ভালো কাটছে,,


এখন চোখ বুজলেই তোর শব্দ, পরক্ষণেই তুই,,,

আশার শিয়রে শুয়ে শুয়ে সদা তোর আঙুল ছুঁই,,


ধন্যবাদ অপরিচিতা।।

Wednesday, 26 August 2026

দুনিয়ার দুনিয়াবি

 দুনিয়ার দুনিয়াবি

                          ............কিয়ৎ কিঙ্কর 


দুনিয়ার দুনিয়াবি,

সব ছেড়ে চলে যাবি,

ঠিক, ঠেঁকে রেখে যাবি -- 

মায়া।।


আঁধারের দুনিয়ায়,

কেউ আলো আগে পায়,

আভা কেউ খুঁজে যায়,,

জীবনের গোধূলিতে, ধরা দেয় --ছায়া।।


মাঝের এ আলোতে,

মশাল-টা জ্বালে যে,,

ছড়ায় প্রভা , অমানিশায় সে,,

জড়ায় বাহুডোরে সত্য।।


কাল করে সত্য-ধারণ,

পাশাপাশি মিথ্যার চারণ,,

মহাকাল ছেঁকে ফেলে কায়া।।


দুনিয়ার দুনিয়াবি,

সু - কু - পথের দাবি,,

নীতি ভুললে খাব-ই খাবি,,

নতুবা মনুষত্ব পাবি -- 


ক্ষয় থেকে অব্যয় হবি এ কালের খেলায়,,

মায়াগুলো স্মৃতি হবে, সবকালে বয়ে যাবে ভালোর ভেলায় ।

নয়তো মায়া ছল হবে, অনুতাপ রয়ে যাবে ঠিক গোধূলি বেলায় ।

Monday, 30 March 2026

স্বাবেগ চক্র

 স্বাবেগ চক্র 

               ...... কিয়ৎ কিঙ্কর

গভীর আবেগে অবগাহন না করা অবদি,
আমার কলম চলে না।

কলমের সুপ্তকাল আমি বুঝেছি আঠাসের ঘরে উঠে, 
নিজের বৈশিষ্ট্যই অজানা মোড়কে রেখেছিলাম নিজের অজান্তে।
আজ তার কিছু কিছু অকস্মাৎ চোখে পড়ে, 
অনুভূতির শিকড় গভীরে পৌঁছলে এমন অদেখাগুলো স্পষ্ট হয় বুঝলাম।।

আবেগ গুলো চিন্তার ধারাকে বেগবান করে,, 
মনের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি চলে।
হাজার বাস্তব বিপদ সংকেত তখন অকার্যকর হয়ে ওঠে, নিউরন আন্দলিত হয় সাগরের শৈবালের মতো, 
হরমোনাল আলোড়নে।।

মগজের এক কোন সময় অপচয়ের হিসাব কষতে থাকে, অবশেষে হিসেব সম্পূর্ণ হয়- 
অপচয়ের ইচ্ছাকে প্রলম্বিত করে, 
মগজের কাজ বাড়িয়ে, 
শব্দ খুঁজে,
বাক্য বুনে, 
কলমের আঁচড়ে আবেগের সমাধি রচনা করে।

তবে কি শেষ হল অলীক আবেগের জীবনকাল? 
নাকি হয়ে গেল স্মৃতি রয়ে গেল পাতায়!!

এ এক চিরন্তন ধাঁধা আমার কাছে, 
অনেক আবেগেরই কবর রচনা করেছি, 
তবে ভিন্ন রূপে তার সূচনাও দেখেছি। 
সব আবেগের বহিঃপ্রকাশ এক রকমের না,, 
কিছু মৌলিক, আচরণ ও অবয়বের স্পষ্ট হয়। 
আর কিছু আছে সাধিত।

তবে সবাই অনন্য হয় বিচিত্র মানুষের সান্নিধ্যে।।

এক অসাধারণ চক্রে পড়ে আজও লিখছি,
গভীর আবেগে অবগাহন না করা অবদি, 
আমার কলম চলে না।

Tuesday, 10 March 2026

নব্য সুশীল দ্বন্দ্ব

নব্য সুশীল দ্বন্দ্ব

                               ............ কিয়ৎ কিঙ্কর 


যখন মানুষ মরে পত্রিকার প্রতি পাতায়,
আমার তখন জটিল সময় কঠিন এ জীবন গাঁথায়।

নিজের ভালো মন্দ টা সবার আগে বুঝি, 
সমালোচনা পাশ কাটিয়ে শান্তিটুকু খুঁজি।
 
হররোজ করি খোঁজ সহজ সুযোগের, 
সব সুরেই মেলাই সুর বাড়ে কাজ মগজের। 

সবারেই রাখি খুশি কি ভালো কি মন্দ!! 
দিনশেষে চিত্তে চলে আপন খুশির দ্বন্দ্ব,,
 
স্বার্থপর নই আমি, শুধু মনে আপন চিন্তা, 
সব কাজেই থাকি আমি নিয়ে মধ্যম পন্থা। 

দেখো ভাই যদি পরিবর্তন আসে, উল্টাই যায় দিক,,
তাই তো মানি অমর বাণী --শক্ত জবানই ঠিক।

আমি সদা সেই দল, 
যার ক্ষমতা রয় প্রবল,,
তবুও বিবেক সত্য সন্ধানে দেয় ক্রমাগত ছল।

তখন বিরতি টানি,
কাঠের চশমা চোখে, আপন উন্নয়ন মোহে দেই,
বিবেকের কোরবানি।।

এক নব্য সুশীল আমি, ব্যস্ত জ্ঞান আহরণে,,
তবুও জড় জ্ঞান গতি চায়, সত্যদাহের শিহরণে।

আমি ভাই মৃতপ্রায় বিবেকটারে বাঁধি,,
রম্য সাহিত্য পাঠে মনটাকে সাধি।

সুযোগ পেলে হয়ে যাবো আলোচনায় মগ্ন,,
পুঁথির বলে আড়াল করবো ভেতরটা কত ভগ্ন।

আমিও জানি সঠিক কি, সত্যের পথ কোনটা,,
সুবিধার জলে নিঙরে নিয়েছি আমার এ অবুঝ মনটা।

নতুন নতুন সত্য আসে, আমার দুয়ার বন্ধ,,
জীবন চলে জীবিকা বলে, ইমানি সূচকে ভন্ড।
সুশীল আমি, পুরনো মেজাজের জীবনী হারা ছন্দ,,
হৃদ পাড়ায় নিয়ত চলে, নব্য সুশীল দ্বন্দ্ব।। 

তুই

তুই        .....কিয়ৎ কিঙ্কর তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া, বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া। তুই মন ক্...