আচমকা ঘুম ভেঙে গেল, বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলার পণ করলাম।
ঘুম ঘোরে জানলাম,, যৌবন শেষে তৃণভূমি ছাড়ার চেয়ে, এখনই মরু জীবন আপন করা শ্রেয়। তাতে কষ্ট হলেও কষ্টের তীব্রতা কমে যায়,, অপ্রিয় হলেও মন প্রিয়-কাতর হয় না।
জীবন-মরু শাশ্বত, স্বজনতরু সর্বদা পাশে থাকে না,, এমনি মাথার উপরে বটের ছায়া, সদা-আগলানো মায়ের মায়া, চিরঞ্জীব নয়।
সময়ের আঘাতে জন্মানো স্রোত, করে হরিৎ দ্বীপের ক্ষয়। আবার নব পলির মতো আশা জমাট বাঁধে, আশার মৃত্যু হয় আক্ষেপের কোলে।
মোটা দাগে সময়ের হাত ধরেই, হতাশার হামাগুড়ি শুরু হয়,, বয়স বাড়ে আশার চিতায় ঘি দিয়ে, হু হু করে হতাশা মস্তিষ্কে জায়গা করে নেয়।
ঠিক তখনি সব আলো অন্ধকার হয়ে ধরা দেয়, পৃথিবীর ব্যস্ততা শুরু হয় তোমাকে একলা করতে, এই ক্রিয়া এতটাই দুনিয়াবি যে, তোমার একটু অভিযোগের সুযোগও রাখে না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও যখন একা হলাম, আশেপাশে সবাই থেকেও,, তখন বুঝেছি জগৎ তার নিয়ম কারো জন্য ভাঙ্গে না,, মানুষকেই হতে হয় চরম মানানসই, তাই, সহজে ঝরে যাওয়ার ভয়েই, বিস্তীর্ণ মরুর পথে চলতে শুরু করলাম।
যদিও তা কঠিন, তবুও আমাকে আমাতে ব্যস্ত রাখে, অন্যের হাতের পুতুল করে না।
এই পথই আমাকে হাদিয়া দেয়-- যৌবন-মরুকে জয়ের সুখ,, তীব্রতর কষ্টে মুখে রাখা হাসি,
জানেনা ওরা, বুকের খাঁচায় চাপ পড়লে, তোমার কথা বেশি মনে হয়,, মনে হয়, আর একটু বেশি চাপলে তোমার কোলে মাথা রাখতে পারবো। ঘুমের ধৈর্য আসে না স্বেচ্ছায়, তাই নিজেকে কষ্ট দিয়ে ক্লান্ত হই, তোমার স্বপ্নে বিভোর হবো বলে।
আবার ভয়ও হয়, নিজের হাতে অক্কা গেলে,ষোলো আনাই বৃথা,, সব পেয়েছির দেশ, তব দেখা পাবো না সেথা।।
কিছু সময় দোটানায় থাকছি, দশ ডাইমেনশনে আমি আর থ্রিডি দুনিয়া,, নিউটন দাদার জগতে খুঁজছি স্ট্রিং থিওরি বুনিয়া।।
তবে, কদম গাছের নিচে থেকেই, আইনস্টাইনের টাইম ডাইলেশনের টের পাচ্ছি,, অতিপ্রাকৃত-রূপে প্রকৃতিতে তোমাকে পাচ্ছি, যাত্রা সসীম জেনেই নিজেকে ধরে রাখছি।। অসীমে পাবো বলে তোমায়।
খাওয়া বলতে, এক আঁজলা পানি আর একটা পাউরুটি, অবসরের অবসর নেই, সময়জ্ঞানকে অনেস্থেসিয়া দিয়েই, তার পানে ছুটি।
ছুটি ধ্যানের বেশে,, তোমায় আমি স্পর্শ করি ঠিক পথের শেষে,, বুঝছি, ক্লান্তিহীন এ লুপ অতিদীর্ঘ হবে না ,, আমার মরণ--যাত্রাবিরতি--অসমাপ্ত রবে না।
বারযাখ পরে অসীম জীবনে তুমি আর আমি অর্থ পাবে এ লৌকিক পাগলামি।।