কাতলা কাহিনী
......... কিয়ৎ কিঙ্কর
গতিহীন জলরাশি, দীঘির শতদল।
ঘাঁট-বাঁধা দুইধার, বায়ু সব নির্মল।
কালো কাক বসে আছে পাড়ের ডালিম ডালে,,
আরেক ধারে রোদ-ছটা পড়ছে টিনের চালে।।
আমি বসে এককোনে ছিপ নিয়ে চুপচাপ।
নল করে ছপ ছপ টান দেই ধুপধাপ।
হঠাৎ টানে বাঁধা, সুতো টান টান চলছে আঁকা বাঁকা,,
মনে উল্লাস চোখে উচ্ছাস বড় কাতলার দ্যাখা।
বেতের বরশি বাঁক খায়, টান ধরে জান টায়।
ভাঙে যদি চাচার বরশি, মার পড়বে সাঁই সাঁই।
সজোরে দিলাম টান, বরশি দুই খান,,
কিছু অংশ ভেঙে নিয়ে গেছে কাতলা, দীঘির মধ্যখান।
কী করি,, কী করি
মোল্লা বাড়ির দীঘি, যদি নামি? সাঁতরায়,,
যদি মোল্লা টের পায়, বাপের কাছে বিচার চায়?
বাপের অপমান - নেই রক্ষা, দিবেনি মোল্লা বাপেরে শিক্ষা,
বরং বাড়ি ফিরে যায়, মাছ আর না খায়, চাচারে মিথ্যা বলে যদি মাফ পায়,,
যা ভাবা তাই কাজ, চাচাকে বলেছি, কুলিম সাপে তেড়েছে,, আমি হন হন দেই দৌড়।
ভাগ্যিস বেঁচে গেছি আজ, তবে থেমে দেখি বরশি ভেঙেসে, চাচা বলেছে,, " ব্যাটা কিছু হয় নাই তো তোর "
না,,, না,,, না,,,
পরদিন ভোরে, বড় কাতলা হাতে করে, মোল্লা এসেছে বাড়ি।।
কাপে সালাম দেয়, মায়ে পাটি পেড়ে দেয় তড়িঘড়ি।।
আমি দেখি কাতলা ফুলে দ্বিগুন, দুর্গন্ধ বহুগুন, ভাঙা বরশি ঝুলছে মুখে,,
মোল্লা দ্যাখে আমায়, আমি মাথা নামায়, ধুকপুকানি বাড়ছে বুকে।।
কী আসলাম,,
ব্যাটার চুরি করা মাছ দিয়া ভাত খাও, আর সৎ লোক এই গান গাও,,
তুমি কইতা জাল টেনে বাছনা দিতাম, খাইতা গিলে গিলে
ছি আসলাম, কতদিন ধরে করতাছো চুরি এম্নে বাপে ব্যাটায় মিলে।।
ভাগ্যিস বকুল দ্যাখছে ; তোমার ছেলেরে দীঘির পাড়ে,,
ভাঙা-ছিপ সহ কাতলা না মরলে তারে আর কে ধরে।
তোমার ভাই দিছে সাক্ষ, গতকাল ঘটিয়েছে সোনার ছেলে এই কান্ড।।
আমার জামাই, মজনু, অইবো কাল, খাওয়ামু কাতলার মাথা সব স্বপ্ন পন্ড।।
যাই হোক,
আমার দোকানে হাজার টাকা দিও জমা, গরিব মানুষ বলে যাও করে দিলাম ক্ষমা।।
ছাওয়ালরে ঠ্যাক দাও মিয়া, কুঞ্চি বাইড়া বাঁশ হইলে পুচবোও না বাল দিয়া।।
অতঃপর আমি রতন,,
খাই মাইর বাপের মন মতন, সাঁই সাঁই,,
মায়ে কান্দে, ছাড়ো এইবার ছোট পোলায় মরবোতো হায় হায়,,
মনে চলে, কতদিন বাপে মায় বড় মাছ খায় নাই।।