Saturday, 14 December 2024

কাতলা কাহিনী

 কাতলা কাহিনী 
               ......... কিয়ৎ কিঙ্কর

গতিহীন জলরাশি, দীঘির শতদল।
ঘাঁট-বাঁধা দুইধার, বায়ু সব নির্মল।
কালো কাক বসে আছে পাড়ের ডালিম ডালে,,
আরেক ধারে রোদ-ছটা পড়ছে টিনের চালে।।

আমি বসে এককোনে ছিপ নিয়ে চুপচাপ।
নল করে ছপ ছপ টান দেই ধুপধাপ।
হঠাৎ টানে বাঁধা, সুতো টান টান চলছে আঁকা বাঁকা,,
মনে উল্লাস চোখে উচ্ছাস বড় কাতলার দ্যাখা।

বেতের বরশি বাঁক খায়, টান ধরে জান টায়।
ভাঙে যদি চাচার বরশি, মার পড়বে সাঁই সাঁই।

সজোরে দিলাম টান, বরশি দুই খান,,
কিছু অংশ ভেঙে নিয়ে গেছে কাতলা, দীঘির মধ্যখান।

কী করি,, কী করি 

মোল্লা বাড়ির দীঘি, যদি নামি? সাঁতরায়,,
যদি মোল্লা টের পায়, বাপের কাছে বিচার চায়?
বাপের অপমান - নেই রক্ষা, দিবেনি মোল্লা বাপেরে শিক্ষা,
বরং বাড়ি ফিরে যায়, মাছ আর না খায়, চাচারে মিথ্যা বলে যদি মাফ পায়,,

যা ভাবা তাই কাজ, চাচাকে বলেছি, কুলিম সাপে তেড়েছে,, আমি হন হন দেই দৌড়।
ভাগ্যিস বেঁচে গেছি আজ, তবে থেমে দেখি বরশি ভেঙেসে, চাচা বলেছে,, " ব্যাটা কিছু হয় নাই তো তোর "

না,,, না,,, না,,,
পরদিন ভোরে, বড় কাতলা হাতে করে, মোল্লা এসেছে বাড়ি।।
কাপে সালাম দেয়, মায়ে পাটি পেড়ে দেয় তড়িঘড়ি।।
আমি দেখি কাতলা ফুলে দ্বিগুন, দুর্গন্ধ বহুগুন, ভাঙা বরশি ঝুলছে মুখে,,
মোল্লা দ্যাখে আমায়, আমি মাথা নামায়, ধুকপুকানি বাড়ছে বুকে।।

কী আসলাম,,
ব্যাটার চুরি করা মাছ দিয়া ভাত খাও, আর সৎ লোক এই গান গাও,,
তুমি কইতা জাল টেনে বাছনা দিতাম, খাইতা গিলে গিলে 
ছি আসলাম, কতদিন ধরে করতাছো চুরি এম্নে বাপে ব্যাটায় মিলে।।

ভাগ্যিস বকুল দ্যাখছে ; তোমার ছেলেরে দীঘির পাড়ে,,
ভাঙা-ছিপ সহ কাতলা না মরলে তারে আর কে ধরে।
তোমার ভাই দিছে সাক্ষ, গতকাল ঘটিয়েছে সোনার ছেলে এই কান্ড।।
আমার জামাই, মজনু, অইবো কাল, খাওয়ামু কাতলার মাথা সব স্বপ্ন পন্ড।।

যাই হোক,
আমার দোকানে হাজার টাকা দিও জমা, গরিব মানুষ বলে যাও করে দিলাম ক্ষমা।।
ছাওয়ালরে ঠ্যাক দাও মিয়া, কুঞ্চি বাইড়া বাঁশ হইলে পুচবোও না বাল দিয়া।।

অতঃপর আমি রতন,,
খাই মাইর বাপের মন মতন, সাঁই সাঁই,,
মায়ে কান্দে, ছাড়ো এইবার ছোট পোলায় মরবোতো হায় হায়,,
মনে চলে, কতদিন বাপে মায় বড় মাছ খায় নাই।।


Thursday, 21 November 2024

ইচ্ছের কারিগর

 ইচ্ছের কারিগর

                       ....... কিয়ৎ কিঙ্কর

তোমার আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে,,
আমি উড়োজাহাজের কারিগর,,
তোমার বাতাসে ভাসার ইচ্ছে,,
আমি সমীরণ জাদুকর।

তোমার সবুজে হারানোর ইচ্ছে,,
আমার অরণ্যেতে বাড়িঘর।
তোমার সমুদ্রজয়ের ইচ্ছে,,
আমি দিক দিশারী বাতিঘর।।

তোমার বর্ষা-যাপনের ইচ্ছে,,
আমি মেঘে ঢাকা অম্বর।।
তোমার কুয়াশায় হাঁটার ইচ্ছে
আমি দুর্বাতে শিশিরের স্বয়ম্বর।।

তোমার জ্যোসনায় ভেজার ইচ্ছে,,
আমি শশীর দেহে রবির ভর।
তোমার গোলাপের মত ফোটার ইচ্ছে,,
আমি গোলাপ-বাগে মধুকর।।

তোমার স্বপ্নে পূর্ণতার ইচ্ছে ,,
আমি ইচ্ছালয়ের প্রফেসর।।
তোমার যত অলীক ইচ্ছে,,
খুঁজবে আমায় মৃত্যু পর।।

Tuesday, 29 October 2024

স্মৃতির চিঠি

 স্মৃতির চিঠি 
               .......... কিয়ৎ কিঙ্কর 

নরম ঘাসের বিছানায় শুয়ে 
চলে যাওয়া কিছু সময় ফিরিয়ে,,
মন কলমে লিখছি তোমায় চিঠি।।
প্রিয় স্মৃতি,

আকাশ আজ মেঘলা,
তাই উন্মুক্ত মাঠও শান্ত মেজাজে আছে,,
ঠিক তোমার অভিমান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শরতের মেঘ ছিল,,
তাই আষাঢ়ে মেঘের প্রস্তুতি ছিল না।
কিছুটা বেপরোয়াই ছিলাম।।
শাক দিয়ে মাছটা ঢাকার চেষ্টায় আছি,,
জানি বুঝতেই পারছো,,

কারণ তোমায় একা রেখে সাগর দেখেছি,
তোমার আবদারে অজুহাত রেখেছি।।
একসাথে বৃষ্টি বিলাসের কথা দিয়েও,
বৃষ্টি শেষে হাজির হয়েছি।
তোমার ছোট্ট আবদার একটা গোলাপের
বিপরীতে আমার ভুলে যাওয়া।
এগুলা আমার শতভাগ অন্যায়।
তোমার অভিমান শতভাগ সঠিক, আজ বুঝি।

আক্ষেপ গুলোই বেশি মনে করাই,
তাই নির্লজ্জ হয়ে অভিমানই খুঁজি।।

অতি যতনে রেখেছিলে, তাই খুঁজিনি নিজেকে 
উদাসীন ছিলাম কিছুকাল বুঝিনি নিজেকে,,
এখন যখন বুঝি তখন তোমায় খুঁজি,,

আরে দেখো বৃষ্টি শুরু হলো,,
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমায়,,
তাকিয়ে দেখছি মেঘ কেটে যাচ্ছে,,
ঠিক যেমন তোমার রাগ অভিমান শেষ হতো,,
এমন মেঘ - বৃষ্টি খেলা,, অনেক খেলেছি আমরা।
কখনো তোমার অভিমান,, কখনো আমার।

তবে প্রতিবার শেষটা সর্বদা আমাদেরই ছিল --
সব ভুলে কেমন ফ্যাত ফ্যাত করে কানতাম 
জড়িয়ে ধরে একে ওপরের নিঃশাস শুনতাম।।
আমার দোষগুলো তোমার দোষগুলো,,
প্রতিবারই পারস্পরিক আস্থা আর সম্মানের 
বজ্রপাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হতো মানতাম।

তুমি অস্বীকার করতে পারবে,
এক ঝলক দেখার জন্য, কিছু কথা বলার জন্য 
কতটা ব্যাকুল থাকতাম,,
সুযোগ হলেই কল্পনা সাজাতাম,
শুরু হতো আমার কথার ধুম,,,
তোমার প্রত্তুত্তর ”হুম "
অনেক ভাবে থাকতা তুমি,,
অবশ্য মানাতোও তোমার সাথে,,

পরীর মত ছিলা,,
তার উপরে আবার উপজেলা ফার্স্ট ছাত্রী,,
উকিল বাবার একমাত্র মেয়ে,,
ছিলে আমার একমাত্র মনোরথ যাত্রী।।
এটা তুমিও মানতা, তাইতো 
তামাটে বর্ণ হয়েও মায়াবী দৃষ্টি পেয়েছি,
সুখী, তোমার অগাধ বিস্বাস পেয়েছি,
ভাগ্যবান, তোমার শেষ নিঃশাস পেয়েছি।।

ভেজা ঘাসের বিছানায় শুয়ে 
বর্তমানের সবটুকু সময় নিঙড়িয়ে,,
সকল যান্ত্রিক কোলাহল ছাড়িয়ে,,
মন কলমে লিখছি তোমায় চিঠি।।
প্রিয় স্মৃতি,,

Thursday, 16 May 2024

প্রণয়োনুভূতির প্রলাপ

 প্রণয়োনুভূতির প্রলাপ 
                        ..... কিয়ৎ কিঙ্কর 

মায়াবতীর মায়ার ঘোর কাটে না,, 
মন ধনুকে তীর সাঁটে না।
লক্ষ্যহীন নিশানা?
নাকি অলক্ষ্য-ই তার দিশা। 

মায়াজালে জড়িয়ে আজ আমি বিভ্রান্ত,,
মায়াডোরে বেঁধে তুমি করো আমায় শান্ত।। 

সাক্ষাৎ খুন,,
এটা শুধু আমিই জানি।
লোকে করছে গুনগুন,, 
বাড়ছে আনচানি।। 

মরেছি তোমার প্রেমে,
কিসের আর ডর।
করেছি মৌনবরন,
ফুটছে লক্ষণ, বাড়ছে প্রেম জ্বর। 

আজ আমার শব্দগুলো তোমায় দিলাম, 
মধুমাখা রসনার সবটুকু রস আহরনের লোভে।। 
স্বর্গীয় সুখ আসুক,, কও কথা,
নয়তো আঁখি মিলাও আসুক ব্যাকুলতার নীরবতা।। 

ঐ অধর-যুগল স্থির থাক,
হৃদ-স্পন্দন গতি পাক,
অনুভূতি সব স্বপ্নে জড়াক,
স্বপ্ন হারাক স্বপ্নের ফারাক।।

Tuesday, 9 April 2024

দ্বন্দ্ব ছন্দ

 দ্বন্দ্ব ছন্দ 
                   ...... কিয়ৎ কিঙ্কর 

কেউ তোমাকে প্রশ্ন করে,,
উত্তর হয় ধাঁধা,
কাউকে তোমার মনে ধরে,,
অন্য কারো রাধা।।

সমীকরণের শেষে এসে,,
চলক অসংজ্ঞায়িত,
উত্তর সব ঠিকই মেলে,,
সুখ আসে না কাঙক্ষিত।

অমাবস্যায় রাত্রি যাপন,,
সোডিয়াম বাতির নিচে,
পূর্ণিমাতিথি রয় যে গোপন,,
আঁশ পুরে মিছে মিছে।।

সে তোমাকে প্রশ্ন করে,,
উত্তর হয় সাদা,,
সুখ তো এতো সহজ নয়,,
তুমি ভাবলে ধাঁধা।

সমীকরনগুলো ঠিকই ছিল,
চলকের মান বাঁধা,,
স্বল্প জ্ঞানে সংঙ্কা করে,
হারাইলো সে রাঁধা।

পূর্ণিমাতে রাত্রি যাপন,
নিকষ কালো কক্ষে,,
অমাবস্যার স্মৃতি-চারণ,,
আঁশ পুরে ক্ষত বক্ষে।।

Tuesday, 23 January 2024

আপন দর্পনে উঁকি

 আপন দর্পনে উঁকি 
                     ...... কিয়ৎ কিঙ্কর 

আমি গভীরকেই অগভীর ভেবেছি,,
সাঁতার শেখার জন্য।
নিজের শখ-ই শাখের করাত,
কি ক্ষতি করবে অন্য।

ঝোপ গুলো সব সুযোগ ভেবেছি,
বুঝে কোপ দেয়ার জন্য।
নিজের চাওয়াই সাপের বাসা ,
ছোবলেই প্রাণ শুন্য।

খুঁটি গুলো সব খাঁটি ভেবেছি,
ভরসায় ভরের জন্য।
নিজের খাট-ই মট মট করে,
ভরসা-ই ভেজাল পণ্য।

আমি পরকেই আপন ভেবেছি,
ভালোবাসা দেয়ার জন্য।
নিজের ভাবনা-ই মিছরির ছুরি,
অপাত্রে প্রেম জঘন্য।

আমি নিজেকে নিছক ভেবেছি,
সময় ছলের জন্য।
নিজের সংকল্প-ই আলাদিনের চেরাগ,
করতে জীবন ধন্য।।

Friday, 5 January 2024

আলোকিত অমাবস্যা

 আলোকিত অমাবস্যা

                               ..... কিয়ৎ কিঙ্কর

হাঁটুজল ঘোলা পানি, ঘাড়-সম বেইমানি।
ধরি মাছ কি সাপ? নেই ভরসা,,
চায়, আলোকিত অমাবস্যা।

পরধন লুটে, কি যে শান্তি জুটে।
সাজাই ফুলেল নাকি কন্টক শয্যা?
মিথ্যার আদরে , ছলনার চাদরে
নিজেকে আগলাচ্ছি নাকি ভঙ্গুর সজ্জা?

আখলাকের ক্যানভাসে, পশ্চিমা-পথ,
সফলতার গন্তব্য নাকি অবক্ষয়ের শপথ?
অন্ধ অনুকরণ, মন কালিমাময় ফর্সা,,
যাই হোক, চায় শুধু  আলোকিত অমাবস্যা।

পরনিন্দার তীরপালে, পরশ্রীকাতরতার ছায়া,
অতিকায় সভ্য নাকি সমাজের মায়া?
উপরে ফিটফাট, ঘুনে ধরা মজ্জা?
এগিয়ে যাচ্ছি নাকি আগালেই লজ্জা?

ধুর কীসব ভাবছি, যেন মাঘের বরষা,,
আসুক শুধু , আলোকিত অমাবস্যা।

তুই

তুই        .....কিয়ৎ কিঙ্কর তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া, বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া। তুই মন ক্...