Saturday, 8 November 2025

সাঁয়াহ্নে কর-লাভ

 সাঁয়াহ্নে কর-লাভ
                         ........ কিয়ৎ কিঙ্কর


জীবন যাত্রার ঠিক সাঁয়াহ্নে, এক ছটা আলো,  
যা আমাকে আবার পাথ দেখালো,,
বললো,  
যেমন কালো রাত্রের অমানিশা, তেমনই তার বিপরীতে দিনের
আলো আছে।

ঠিক এক গাছ,  
কথা না বলে নিরবে যে করে অপেক্ষা,  
ঠিক সেই পথিক,  
যে হেঁটে চলে অলক্ষে, খুঁজতে দিগন্ত।  

সেই পথিক, সেই গাছ সবার চাহিদা আলো,  
সেই আলো যা আমি দেখেছি এক গোধূলিতে আঁধার কে হারিয়ে...

সেদিনের সেই ক্ষণে, সব জাগতিক নিয়মের ব্যাবচ্ছেদ করে,
সীনা বিদীর্ণ করে আলোটা বাম নিলয়ে ঠাঁই নিয়েছিলো।

শুদ্ধ লোহিত শুচি করে,
সত্যকে জাপটে ধরে, বলেছিল:

কায়ার আঁধারে খুঁজো আমায়,
মায়ার আকারে বুঝো আমায়,
অনেক করে চাচ্ছি তোমায়,
চাচ্ছি হতে চির বন্দী।

পবিত্র আঁধার সঙ্গে নিলে, নিজের মাঝে ডুব দিলে,,
দিলাম কথা, পাবে সর্বত্র, ছাড়বো না তোমার গন্ডি।

সময় এসেছে, জাগ্রত হোক তোমার মানমন্দির,
গভীর রাতে খুব একাকী তোমার আমার সন্ধির।

Thursday, 11 September 2025

তুমি আমি অন্বয়

 তুমি আমি অন্বয়

                      ............ কিয়ৎ কিঙ্কর 

এক সকালে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে থেকে,
গোধূলিতে দেখা দূর দিগন্তের লাল আভা তুমি,,
তুমি কতটা আকাঙ্খার ফল জানে শুধু 
আমার হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতি।

এক সকাল সবুজ ঘাসে বৃষ্টির পর 
ঘাসগুলোর পাওয়া নতুন সজীবতা তুমি।
তুমি এতটা জীবনময় যে নিজ জীবনী
সঞ্চার হয় তোমায় অবলোকনে।

এক ছুটে চলে বাসের জানালায় দেখা 
গতিময় ধানী মাঠের রূপ তুমি,,
তোমার স্থির চিত্রই এতটা চঞ্চল যা
আমার স্থবিরতার শান্তিময় হত্যা।

এক ঘনরাতে উন্মুক্ত মাঠে শীতের 
কুয়াশার ভেসে থাকার ভঙ্গিমা তুমি,,
তুমি এতটা মনোহরা যে, তুমি তুমি
ভাবলেই নিজেতে হারায় আমি।

এক বর্ষার দুপুরে রোদ ছায়ার খেলায়
মেঘের করা কারুকাজ তুমি,
তোমার চাহনি এতটাই শৈল্পিক যা
আমার হৃদয়ে মায়া-নকশা করে।

এক শীতের হঠাৎ বৃষ্টিতে লেকের 
বেঁচে থাকা পানিতে প্রাণের যোগ তুমি।
তোমার উপস্থিতি এতটা মোহনীয় যা
অসুস্থতায়ও দেয় আমায় সুখ ভোগ।

প্রায় রাতে চোখ বুজে দেখা স্বপ্নে 
এক আদর্শ নারীর অপরূপ রূপ তুমি।
তুমি এতটা মায়াবতী যে, 
তোমা-দেখা পায় অবচেতনেও।

সব প্রহরের কল্পনায় থাকা ভবিষ্যত পরিকল্পনার
অবিচ্ছেদ্য অংশ তুমি।
আমি কতটা তুমিময় জানে শুধু
আমার আমি।।

Wednesday, 27 August 2025

স্ব-চিত্ত বিবরণ

স্ব-চিত্ত বিবরণ 

                ....... কিয়ৎ কিঙ্কর


চলচিত্তে, স্ব-দিশা হারায়ে,,
খুঁজিতেছি আপনারে সহস্র প্রদীপ জ্বালায়ে।

খুঁজতেছি প্রভাতে, বিদ্বান-সভাতে,,
খুঁজিতেছি নিশিথে, নিশিথিনীর আভাতে।

তাহারই মাঝে কর্ণপটে স্বস্তির বসুমতি-বাণী,,
হতাশার বাঁক পরে হর্ষের রাজধানী।।

চলচিত্তে খানিকটা স্থবিরতা আসে,
রঙধনু আশে মন চপলতায় ভাসে।।

আলো আসে, আলো যায়,,
চিত্ত মাতিয়া উঠে নতুন অস্থিরতায়,,

ফিরিয়া যায় সেথায় মৃদু-প্রভা ফালায়ে,
যেথা খুঁজেতেছি মোরে সহস্র প্রদীপ জ্বালায়ে।।

এ ধাঁধার বাঁকে বাঁকে বাড়ে চিত্তের সংশয়,
আপনার অন্বেষণ কী শুধু প্রাণের অপচয়?

পাই নাই এখনো স্ব এর দিশা,
আলো সব গত হয়, রয় অমানিশা।

(স্বীয় চিত্তের ন্যায় দুষ্ট গুরুচণ্ডালিতে)

Saturday, 29 March 2025

অক্ষম-বিবেক-চরিত

 অক্ষম-বিবেক-চরিত 
                       .......... কিয়ৎ কিঙ্কর
 
দুনিয়া ব্যাস্ত,,
আছি আমি তন্দ্রায়।
প্রতিজন প্রিয়জন?
প্রয়োজনে যে কাছে নাই।
আমি পুরো স্বার্থপর,
নিজেরটা শুধু ভাবি তাই।

তন্দ্রার মায়াতেই আছি আমি সুখে,,
জাগ্রত মানুষেরাই হিংসা পুষে বুকে।।
অন্যায়-কারীদের অন্ন দেয় মুখে,,
কপটতার ব্যস্ততায় থাকে বড় দুখে।
চুরুট, গাঁজা, ফেঞ্চি একসাথে ফুকে।

আমি দুর্বল, আমি ক্ষীণ 
নেই ঝগড়ার সাহস,, নেই কোনো ঋণ-ও।
ভুইফোঁড় সাহসী-দের রাগ ওঠে সস্তায়,,
আজেবাজে কর্ম করে অবশেষে পস্তায়।।
জিম যায় তিন বার, মার খায় রাস্তায়।।

আমি বোবা, আমি কালা,,
খারাপ সময়-রে এড়িয়ে বলি শুধু ভালা।
এতে সুশীল বিজ্ঞের অঙ্গে ধরে জ্বালা,
তারা বাকপটু করে ঝালাপালা,
সুযোগের প্রয়োজনে পরে মিথ্যার বরমালা।

আছি ঘুম-ঘোরে,,স্বার্থপর নত-শীর,
মাঝে মাঝে স্বপ্নের দোষে নিশানায় মারি তীর।
যারা সমাজের মাথা তারা সব মহাবীর,,
রাজনীতি পেশা, তারা সত্যবাদী যুধিষ্ঠীর,
আখের গোছানোর নেশা, অধিকাংশই ভন্ড পীর।।

আমি দুর্বল, নিষ্ফল আছি ঘুম ঘোরে,,
ঘুমন্ত যারা সমাজে তারাই রাজ করে।
অভিনয়ে সেরা তারা মুখোশ-টা পরে,,
রাঘব-বোয়ালে তেল দিয়ে পুঁটি মাছ ধরে।
দিনশেষে তাকিয়ে থাকে দুর্নীতির তরে,,

তবে আমিই উত্তম, ব্যাস্ত এ দুনিয়ায়,,
আছি আমি তন্দ্রায়।
প্রিয়জন প্রয়োজন,
দুখে পাশে থাকা চাই।
যদি না থাকে তাদের দায়,
স্বার্থপরতাই ভালো ভাই।
সাত-এ নাই, পাঁচ-এ নাই,
ভাবি শুধু নিজের-টাই।


Wednesday, 12 February 2025

গোধূলির গল্প

গোধূলির গল্প

                 ...... কিয়ৎ কিঙ্কর 

রেইল পথ ধরে হাঁটছি,
চটির পরিধি পেরিয়ে ধুলো উঠছে পায়ে।
রবি গোধূলির ডাকে ছুটছে,
এলইডির আলোয় স্পষ্ট ধুয়ো উঠছে টঙের চায়ে।।

সব সবুজ রং হারায়, তার নিচে হেটে চলি আমি,
দূর-দৃষ্টি ক্ষীন হয়, নিজ ছায়া গত হয়: দু দণ্ড থামি।।

দেখি কাকের চোখে জলজ্বলা লাল দিবাকর,
শুনি সন্ধ্যার আহবানে ঝিঝির ডাক।
কড়ই পাতার ফাঁকে ফাঁকে ধূসর আকাশের অবসর,,
মেঘের বদনজুড়ে লালচে আভার বাঁক।।

রাস্তায় বাতি জ্বলে ওঠে, আধার তারায় হলদে সোডিয়াম।
দূরের শব্দও প্রাণ পায়,শব্দের তীক্ষ্ণতা বাড়ায় ঝিঝির পডিয়াম।।

সাঁঝের আযান হয়, সজোরে লোক কমে,
দৃষ্টিগোচর হয় আকাশের শশী।
অদূরের প্লাটফর্মে, এক ঝাঁক নীরবতা জমে
শীতল সমিরন বয়ে আনে নিশি।। 

Wednesday, 1 January 2025

আশাতেই আঁশ

 আশাতেই আঁশ 
                   ........... কিয়ৎ কিঙ্কর 

প্রভাতের আভাতে দেখেছিনু মৃদু রোদ ছটা,,
ভেবেছিনু ধান শুঁয়াকে,কিছু ভাঙাইবো আর রাখিবো কিছু গোলা-এ,,
ধান দিলেম উঠোনে, পুরোদস্তর শৈল্পিক সাঁচে।
অচিরেই কপোলে পড়িলো বৃষ্টির ফোটা,,
চপচপে ধান বস্তায় পুরিয়া, উনুন খানি জ্বালায়ে,,
কপাল পুড়ায়ে বৃষ্টিতে, ছাঁকিয়াছি হস্ত অগ্নি-আঁচে।।

এই বরষার ভরসা নাই এক দন্ড,,
বিলম্ব না করিয়া মেঝের উপরে ভেজা ধান ছড়ায়ে,,
আমি অতঃপর উপর দিয়া সজোরে চালায়াছি পাখা।
আরে, পোড়া পোড়া ইহা কিসের গন্ধ,,
রান্নাঘরে উনুন মুখে শুকনা কাঠের আগুন দমায়ে,,
পাতিলের সরা সরাইতেই, কালো ধোঁয়ার পরে কালচে ভাতের দ্যাখা।।

বিন্নি ভিজায়ে অন্ন পুড়ায়ে শুন্য উদরে হাত,,
আজ বাঁচায়ে কাল খাইবো বলিয়া, খায়নি গত রাত।
ঘর ভরা মোর ধান তবু ঘরেই হাভাত।
গিন্নি ধরিয়াছে অন্য পোলারে দেখিয়া উঁচু জাত।

নয়ন জুড়িয়া আসিয়াছে অশ্রু, মনন জুড়িয়া রব,,
এক প্রস্থ প্রস্তর বুকে লইয়া, শোকে ধরিলাম মোনাজাত।
হে রহিম রহমান কিছু চাহিনে, চাহি শুধু দুমুঠো ভাত।
মনে আঁশ কালকের রবি আপনার রবে, শুদ্ধ হইবে সব।

তুই

তুই        .....কিয়ৎ কিঙ্কর তুই মানসচিত্রে জন্মানো আবেগ, পুষ্পিত ডালিয়া, বর্ণ হয়ে যায় সুরলৌলিক, গন্ধে লুটিস হিয়া। তুই মন ক্...