শৃঙ্খলাহীন জগতে প্রাপ্তির মুলুক রচনা
................কিয়ৎ কিঙ্কর
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির নিচে,
পুষকুনির তটে পায়ের ছাপ পড়ার মতো কাদায়,
এক পায়ে দাঁড়ানো হাঁসের ঘুম,
আমায় প্রশান্তির মানে খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে।
ব্যাস্ত কোলাহলপূর্ণ রাস্তার পাশে সন্ধ্যার পর,
মানুষের কানে আঙ্গুল-চেপে চলার মাঝেই
ফুটপাতের কিনারায় কুকুরের আরাম-ঘুম,
অবস্থানের সাথে সহ্য ক্ষমতার নতুন সমীকরণ বুনে
আমার চিন্তায়।
বাতাসের জোরে ছুটে চলা কাশফুলের বীজের পেছনে,
কোনোকিছু না ভেবে -খিলখিলানো হাসি নিয়ে,
ছোট্ট ছেলেটার ছুটে চলা,
আমার জটিল মগজে সহজ হাসির উপায় খোঁজার তাড়না দেয়।
দুপুর বেলায় ঘন অন্ধকার সহ প্রবল ঝড়ে,
বড় ফজলি গাছটার নিচে, হেসে চিল্লিয়ে বিদ্যুৎ-চমকানো আলোয়,
উলু-মাঝে আম পাওয়ার প্রতিযোগিতা,
আমায় সুযোগ ও সাহসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব খুঁজতে প্রেরণা দেয়।
সারের বস্তার বড় পলিতে,
চোখ বরাবর দুটো ফুটোকরে বৃষ্টির মাঝে,
বুকে বই জড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ,
আমায় অভাবের সাথে আনন্দের সহবাস সম্ভব বলে ধারণা দেয়।
এসবের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত হই,
পানকৌড়ির চোখের মতো নীল জলে অবগাহনের ইচ্ছে জাগে,
ইচ্ছে জাগে শীতের ভোরে পাকা রাস্তায় হাত ছেড়ে সাইকেল চালাতে,
সকাল বেলা নুন ছিটিয়ে মোটা চালের ভাতের মাড় খেতে,
বৃষ্টির মাঝে শেওলা জন্মানো পালাঙ্গায় পিচ্ছিল খেলতে,
আখ বোঝাই মহিষের গাড়ির পেছনে ঝুলে ঝুলে কুশর বের করতে,,
শীতের সন্ধেই গোল করে বসে সাঁজাল তাপাতে,,
ক্লান্তিগুলো ফুরায় শহরের চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হওয়া অপ্রাপ্তির স্লোগানে।।
তবে আজ পঞ্চাশ পেরিয়ে ,,
হতাশার এক বিন্দুও কাছে নেই ,
প্রাপ্তির পাল্লাও ভারী মনে হয়,
উত্তরগুলো সব ঠিকঠাক নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি,
নিজের জীবনে, আপন ভাবনার জায়গা দিয়েছি
বিস্বাসের ঘরে।।
জবাবগুলো আমাকে শান্তি দিয়েছে,
অল্পকেও মধুর ভাবার শক্তি দিয়েছে,,
নগন্য কেউ গণ্য করার সুযোগ দিয়েছে,
প্রকৃতির খুনসুটি উপলব্ধির অবকাশ দিয়েছে,,
স্রোতের প্রতিকূলে অনুকূল ভাবতে শিখিয়েছে।।
তাই আজ,,
পানি পোকার বিচরণে
জন্ম নেয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গগুলোও
আমার ভালো লাগে।
পুকুরের পানি ভেদ করা কুঞ্চির উপরে,
ফড়িংয়ের পুনঃপুন উঠা-বসা,
আমার মনোযোগ কাড়ে।
বর্ষার বৃষ্টিতে সোনালি ব্যাঙের ডাক,
আমার কানে সিম্ফনি বানায় ।
অমাবস্যার আকাশের এলোমেলো তারারা,
আমায় নানান গল্প শোনায়,,
নীল আকাশের বুকে ভেসে চলা,
সাদা-কালো মেঘ, মগজে
চারকোলে আঁকা বিচিত্র শিল্পের জন্ম দেয়।
আমতলে হপারের ভুনভুনিয়ে ইতস্তত ছুটে চলা,
সন্ধ্যা না নামতেই ঝিঁঝিঁর কলতান,
আর রাত গভীর হলেই নানান বাদুড়ের কূজন,
সব ক্যাকোফোনি সুর খুঁজে পায় আজ।।
ভালো আছি, হতাশাময় জটিল এ গোলকে নিজের মুলুক বানিয়ে।।
No comments:
Post a Comment